চেক ডিসঅনারের মামলা ও তার ডিফেন্সঃ

চেকের মামলায় একজন ব্যক্তি অপর ব্যক্তির বিরুদ্ধে নালিশ করতে পারে। আবার কখনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করতে পারে। তাই মামলা বিবেচনায় নিয়ে আসামিকে ডিফেন্স নিতে হবে। ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যক্তির যে নালিশ উহা হতে ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের নালিশের ক্ষেত্রে আসামির ডিফেন্স অবশ্যই আলাদ হবে। তবে কিছু ডিফেন্স একই হতে পারে। 

চেক ডিসঅনারের মামলা ও তার ডিফেন্স

প্রথমেই যদি আমরা ব্যক্তির বিরু্দ্ধে অপর এক ব্যক্তির চেক ডিসঅনারের মামলার ডিফেন্স নিয়ে আলোচনা করি তাহলে দেখতে পাব যে, আসামি ডিফেন্স নিতে পারে যে, 

(১) ডিসঅনারড চেকটি আসামির কাছ থেকে প্রতারণা মুলে গ্রহণ করা হয়েছে বা 

(২) জবরদস্তি বা কোন ভয়ভীতি বা কোন অপরাধ মুলে গ্রহণ করা হয়েছে বা

 (৩) ডিসঅনারড চেকটি শুধুমাত্র সিকিউরিটি হিসেবে প্রদান করা হয়েছিল তা কোন পাওনা পরিশোধের নিমিত্তে নয় এবং লেনদেনের কিছু অংশ ইতোমধ্যেই পরিশোধ করা হয়েছে বা 

(৪) ডিসঅনারড চেকের নোটিশ নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে দেওয়া হয়নি বা

 (৫) ডিসঅনারড চেকে উল্লেখিত টাকা পরিশোধের নির্ধারিত ৩০ দিন সময় না দিয়ে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই মামলা করা হয়েছে মামলাটি ইমমেচিউর বা 

(৬) নোটিশ জারি আইনানুগ পন্থায় হয়নি 

অর্থাৎ ১৩৮(১এ) ধারায় যে তিনভাবে নোটিশ জারি কথা বলা হয়েছে তার কোন একটির ব্যত্যয় হয়েছে। যে ব্যত্যয়টি প্রায় নালিশে দেখা যায় তাহলো লিগ্যাল নোটিশ রেজিস্ট্রার্ড ডাকযোগে পাঠালেও উহার সাথে একলনেজমেন্ট ডিউ (এ/ডি কার্ড) দেওয়া হয়না। এডি কার্ড না দিলে আসামি কবে নোটিশ টি রিসিভ করলো তার তারিখটি পাওয়া যায় না। আর এই তারিখ পাওয়া না গেলে আসামি ডিসঅনারড চেকে লিখিত অংকের টাকা পরিশোধে ৩০ দিন সময় পেয়েছে কিনা তা হিসাব করা যায় না। 

আর এই হিসাব ছাড়া অর্থাৎ ৩০ দিন অতিবাহিত না হলে মামলা করা যাবে না বা এই ৩০ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর এক মাসের মধ্যে মামলা না করলে তা এনআই এ্যাক্টের ১৪১(বি) ধারা অনুযায়ি তামাদিতে বারিত হয়ে যাবে। তাই এডি কার্ড খুবই গুরুত্ব পূর্ণ। নালিশি দরখাস্তে এডি কার্ডের এই তারিখ উল্লেখ করতে না পারলে আসামি পক্ষ এর সুযোগে মামলাটিকে বরবাদ করে দিতে পারে। তাই এটি আসামির অন্যতম একটি ডিফেন্স হবে। সর্বশেষ ডিফেন্স 

(৭) হতে পারে নালিশটি তামাদিতে বারিত।

 (৮) নালিশি চেকটি হারানো গিয়েছে যা ডিসঅনারড করে আলোচ্য মামলটি দায়ের করা হয়েছে আসামি এ ধরণেও একটি ডিফেন্স নিতে পারে অথবা 

(৯) সন্মত তারিখে পূবেই তর্কিত চেকটি ডিসঅনারড করা হয়েছে মর্মে আসামি একটি ডিফেন্স নিতে পারে।

 (১০) পত্রিকার মাধ্যমে নোটিশ জারির ক্ষেত্রে আসামি এ ডিফেন্স নিতে পারে যে, পত্রিকাটি জাতিয় পত্রিকা ছিল না বরং তা ছিল স্থানিয় পত্রিকা। অর্থলগ্নিকারি বা ঋণপ্রদানকারি প্রতিষ্ঠানের চেকের মামলার ক্ষেত্রে উপরোক্ত ডিফেন্সের পাশাপাশি আরও যেসব ডিফেন্স আসামি নিতে পারে তাহলো (১১) হস্তান্তরিত চেকটি “পাওনা পরিশোধের” জন্য দেওয়া হয়নি বরং তা ‘সিকিউরিটি বা জামানত” স্বরুপ দেওয়া হয়েছিল। (১২) অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় প্রতিষ্ঠানের মামলা কিন্ত ম্যানেজার বা অন্যকোন অফিসার নিজ নামে সেই মামলাটি করেছে সেই ক্ষেত্রে আপনি দুইটি ডিফেন্স নিতে পারেন যেমন, ক. নালিশি দরখাস্ত আইনানুগভাবে আনীত হয়নি খ. ম্যানেজার বা অন্যকোন অফিসার আইনানুগভাবে ক্ষমতা প্রাপ্ত হয়নি। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠান এর পক্ষে মামলা না হয়ে যদি তা কোন অফিসার কর্তৃক হয় তাহলে তাকে যথাযথভাবে ”কর্তৃত্ব সম্পন্ন” হতে হবে আর এই কর্তৃত্ব কেবল মাত্র “পাওয়ার অভ অ্যাটর্ণির” মাধ্যমে দেওয়া যায় এবং সেই পাওয়া অভ অ্যাটর্নি হতে হবে ১০০০ টাকার স্ট্যাম্প পেপার এর উপর (পাওয়ার অব অ্যাটর্ণি এ্যাক্ট,২০১২, ২(৭) এবং স্ট্যাম্প এ্যাক্ট, ১৯৯৯ এর প্রথম তফসিল এর ৪৮(বি) অনু)। এই ডিফেন্স এর ভিত্তিতে জেরা করতে হবে, সাজেশন দিতে হবে এবং ডিফেন্স উইটনেস (ডিডাব্লিউ) দিয়ে তা প্রমাণ করতে হবে।

(সংগৃহীত)

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Disqus Shortname

Legal 100 💯 Amk marriage divorce বিবাহ তালাক Rajshahi Judge Court, Rajshahi.

Comments system

[blogger][disqus][facebook]

Below Post Ad