বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্ট বিভাগের অন্তনির্হিত ক্ষমতা আলোচনা কর।

১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধির ধারা-৫৬১A হাইকোর্ট বিভাগের সহজাত ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধিতে অন্তনির্হিত ক্ষমতার কোন সংঙ্গা প্রদান করা হই নাই। হাইকোর্ট বিভাগ যখন সঠিক মনে করবে তখন ন্যায়বিচারের স্বার্থে এই ধারার অধীনে ক্ষমতা প্রয়োগ করে ন্যায় বিচার প্রদান করিবেন।

 ৫৬১A ধারায় প্রতিকার পাওয়ার শর্ত:

এই ক্ষমতা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে। ১৮৯৮সালের ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৬১A  ধারা- তে প্রতিকার পেতে হলে, আসামীকে অবশ্যই দেখাতে হবে প্রসিকিউশন যে ফ্যাক্ট এর উপর ভিত্তি করে অভিযোগ এনেছে তা কোন অপরাধই গঠন করে না অথবা অভিযোগটি আইন দ্বারা বারিত


 “পৃথিবীর কোন আইন সয়ংসম্পুর্ণ নয়, তাহার আলোকে কোনখনো যদি ন্যায় বিচারের স্বার্থে ১৮৯৮ সালের ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৬১A ধারার মাধ্যমে তাহার প্রতিকার প্রদান করা হইবে। সহজাত ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে ।”

 ১৮৯৮সালের ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৬১A  ধারা- তে টি ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বিভাগের সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগের কথা বলা হইছে

ক. ফৌজদারী কার্যবিধির অধীনে কোন আদেশকে কার্যকারিতা করার জন্য

খ.  কোন অর্ধস্তন আদালত বা ট্রাইব্যুনালের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধ করার জন্য

গ. ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য

 উদাহরণ; একজন ব্যক্তির কাছে তিন ব্যাটারির একটা বিস্ফোরক পাওয়া গেছে। তাকে Arms Act এর ধারা 19A এর অধীনে চার্জ গঠন করে স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল ১০বছরের সাজা দিয়ে দেয়। আসামী ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টে আপিল করতে পারে নি। এখন তার প্রতিকার পাওয়ার সমস্ত রাস্তা কী বন্ধ হয়ে গেছে? [১১বিজেএস ভাইভা]

উত্তর: এখানে আসামী ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৬১A ধারার অধীনে Quashment এর জন্য আবেদন করতে পারবে। কারণ, Arms Act এর ধারা- ১৯A তে বলা হয়েছে যে, ধারা-১৯ এর দফা- a,c,e,f যেসব অপরাধের কথা বলা হয়েছে সেসব অপরাধ যদি আগ্নেয়াস্ত্র যেমন- পিস্তল, রিভলবার, শট গান ইত্যাদি দিয়ে সংঘটিত করা হয় তাহলে এই ধারা অনুযায়ী সাজা প্রদান করা হবে। সুতরাং, বিস্ফোরক পাওয়ার কারণে এই ধারায় চার্জ গঠন সঠিক হয়নি, বিচার সাজা প্রদানের ফলে Abuse of Process হয়েছে। অর্থাৎ আসামী ৫৬১A ধারায় প্রতিকার পেতে অধিকারী।

 

৫৬১A ধারার অধীনে সহজাত ক্ষমতার_প্রকৃতি:

ধারা-৫৬১A এর অধীনে হাইকোর্টের সহজাত ক্ষমতা অবাধ নয়। যদিও এই ক্ষমতার কোন সংজ্ঞা নেই, তা সত্ত্বেও যখন অন্য কোন প্রতিকার থাকবে তখন এই ক্ষমতা প্রয়োগ করা উচিত নয়।এই ক্ষমতা বিকল্প ক্ষমতা নয়, বরং অতিরিক্ত ক্ষমতা যা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সেসব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা যায় যেখানে ফৌজদারী কার্যবিধিতে প্রতিকার পাওয়ার কোন পদ্ধতি দেয়া নেই

 

১৮৯৮সালের ফৌজদারী কার্যবিধির ৫৬১A  ধারা তে প্রতিকার পাওয়ার শর্তগুলো নিচে উল্লেখ করা হল:

যে ফ্যাক্ট এর উপর ভিত্তি করে অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলা এতটাই ভ্রান্ত বা অসম্ভব যে, আসামী যদি সেসব ফ্যাক্ট স্বীকার করে নেয় তাহলেও আসামীর বিরুদ্ধে কোন মামলা চলে না

মামলায় যখন বিচার বিলম্বিত হবার সম্ভাবনা থাকে এবং যদি তা অভিযুক্তকে হয়রানি করার জন্য করা হয়।

মামলাটি যদি আদালতের কার্যক্রমের অপব্যবহার হয় এবং সেই ফৌজদারী মামলা চলার অনুমতি দেয়া হলে তা আসামীর জন্য মারাত্মক অবিচার হবে

 

#৫৬১A ধারার ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো করা যাবে না:

 

. ৫৬১ A ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করার সময় সাক্ষ্য মূল্যায়ন করা যাবে না।সাক্ষ্যের মূল্যায়ন সাধারণত, বিচারিক আদালত করে থাকে

. যেখানে আইনের স্পষ্ট বিধান আছে, সেখানে সহজাত ক্ষমতা ব্যবহার করা যাবে না। আবার, ৫৬১ A ধারার ক্ষমতা এমন কিছু করার জন্য প্রয়োগ করা যাবে না যা আইনে স্পষ্টত বারিত করা হয়েছে

. সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করে হাইকোর্ট বিভাগ নির্বাহী এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আদেশ অথবা এমন কোন সিদ্ধান্ত বা আদেশ যা ফৌজদারী মামলা সম্পর্কিত নয় সেগুলোকে বাতিল (Quash) করতে পারবে না

. যখন, আইনের স্পষ্ট বিধান অধস্তন আদালতকে কোন ফৌজদারী মামলায় প্রতিকার দেয়ার ক্ষমতা দেয় তখনও ৫৬১A ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাবে না।

 

#দায়রা আদালতের রিভিশনে সংক্ষুব্ধ হলে ৫৬১A ধারার অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে প্রতিকার চাওয়া যাবে কি?

 

কোন ফৌজদারী বিষয়ে যদি রিভিশনে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে থাকে, তাহলেও হাইকোর্ট বিভাগ বিষয়ে ৫৬১A ধারার অধীনে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। তবে, এক্ষেত্রে ৫৬১A ধারার অধীনে ক্ষমতা প্রয়োগের পূর্বে নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে:

ফৌজদারী বিষয়টি দায়রা আদালতে রিভিশনের মাধ্যমে উত্থাপন করা হয়েছিল

দায়রা আদালত রিভিশনে বিষয়টিতে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন

আবেদনকারী দায়রা আদালতের সিদ্ধান্তে এখনো সংক্ষুব্ধ।

আবেদনকারী যদি দেখাতে পারে যে তার মামলাটি ধারা-৫৬১A এর অধীনে ৩টির যে কোন একটি গ্রাউন্ডে বিবেচনাযোগ্য।

 

#ধারা-৫৬১A এর অধীনে আবেদন করার #তামাদি মেয়াদ কত?

ধারা-৫৬১A এর অধীনে আবেদন করার কোন তামাদি মেয়াদ নেই। কারণ, এই ধারার অধীনে ক্ষমতা নির্দিষ্ট কোন আদেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয় না, বরং পুরো প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হয়। যেহেতু এই ধারার উদ্দশ্যই প্রক্রিয়ার অপব্যবহার রোধ করা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা তাই এই ধারার অধীনে আবেদন তামাদিতে বারিত হয় না।

 

#ধারা-৫৬১ A এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগের সহজাত ক্ষমতা সম্পর্কে কিছু #গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

 ১. ধারা-৫৬১A এর অধীনে সহজাত ক্ষমতা কেবলমাত্র হাইকোর্ট বিভাগ প্রয়োগ করতে পারে

. হাইকোর্ট বিভাগের অধীনস্ত কোন ফৌজদারী আদালত ধারা-৫৬১A এর অধীনে কোন সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে না

. ধারা-৫৬১A ধারার ক্ষমতা মামলার প্রাথমিক পর্যায়েও প্রয়োগ করা যাবে।পুলিশী তদন্তের সময় যদি কোন আমলযোগ্য অপরাধের অস্তিত্ব প্রকাশ না পায় তাহলে ৫৬১A ধারা অনুযায়ী প্রতিকার প্রদান করা যাবে। এই ক্ষমতা মামলা আমলে নেয়ার আগেও ব্যবহার করা যায়

. এই ক্ষমতা চার্জ গঠনের আগে অথবা চার্জ গঠনের পরেও প্রয়োগ করা যায়

. এই ক্ষমতা প্রয়োগের সময় সাক্ষ্যের মান, সাক্ষ্যের মূল্যায়ন ইত্যাদি বিবেচনা করা যায় না

. যেখানে মামলারই কোন ভিত্তি নেই সেখানে ধারা-৫৬১A এর অধীনে হাইকোর্ট বিভাগ সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে

. যখন আপিল করার সুযোগ থাকে তখন ৫৬১A ধারার অধীনে সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করা যাবে না

. দন্ডাদেশের বিরুদ্ধেও ৫৬১A ধারার বিধান অনুযায়ী দন্ডাদেশ বাতিলের আবেদন করা যাবে।

দন্ডাদেশ বাতিলের ক্ষেত্রে যদি দেখা যায় যে দন্ডাদেশটি আইনসংগত কোন সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে দেয়া হয়নি যেমন যদি দন্ডাদেশ ১৬৪ ধারার বিবৃতির ভিত্তিতে দেয়া হয় কিন্তু বিবৃতিই যদি আইন অনুযায়ী গৃহীত না হয় তাহলে বলা যাবে যে দন্ডাদেশ কোন সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে দেয়া হয় নি। ঐরকম সাক্ষ্যকে আইনের দৃষ্টিতে কোন সাক্ষ্য হিসেবেই গণ্য করা যাবেনা

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Disqus Shortname

Legal 100 💯 Amk marriage divorce বিবাহ তালাক Rajshahi Judge Court, Rajshahi.

Comments system

[blogger][disqus][facebook]

Below Post Ad