অভিযোগ থেকে অব্যহতি ও খালাস কি ও এদের পার্থক্য আলোচনা কর।২৪১ক অব্যহতি প্রদানের সময় বিচারক কি কি বিষয় বিবেচনা করিবেন।চুড়ান্ত বিচারের পর বেকুসুর খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তি কি পুনরায় একই ব্যক্তিকে কি বিচার করা যাবে।

 (Bail) জামিন বা মুক্তিঃ  

জামিন বা মুক্তি আপনি যে কোন সময় পেতে পারেন আসামী যদি আদালতকে বিশ্বাস যগ্য কারন দেখাতে পারে এবং আদালত যদি মনেকরে আসামী কে জামিন দেয়া যায় তাহলে মামলা চলা অবস্থায় আসামী কে কারাগারে না রেখে জামিন বা মুক্তি দিতে পারে অনেক সময় আদালত আসামী কে শর্ত বা লিখিত বন্ডের মাধ্যমে জামিন বা মুক্তি দিয়ে থাকে

(ফৌজদারী কার্যবিধি ধারা- ৪৯৬-৪৯৮) আলোচনা করা আছে

  (Bail) জামিন বা মুক্তিঃ 

(Discharge) অব্যাহতিঃ

  খালাস (Acquittal)

 

(Discharge) অব্যাহতিঃ

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ১১৯, ২০২-(), ২৪১(), ২৬৫() ৪৯৪() ধারায় আসামীর অব্যাহতির বিধান রয়েছে


মামলার নথি, দাখিল দলিলাদি এবং তৎসম্পর্কে আসামী অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য শুনার পর আদালত যদি মনে করেন যে, আসামীর বিরুদ্ধে মামলা চালাবার যথেষ্ট কারণ নাই, তাহলে আদালত আসামীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিবেন এবং তার কারণ লিপিবদ্ধ করে রাখবেন

ফৌজদারী কার্যবিধি ধারা- ২৪১ক:

(Acquittal) খালাসঃ

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির আসামী খালাসের বিধান রয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৫(), ২৪৭, ২৪৮, ২৬৫ এইচ, ২৬৫ কে, ২৪৫() ৪৯৪ বি ধারায়:

অভিযোগকারী পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগকারী পক্ষ আসামী পক্ষের বক্তব্য শুনার পর আদালত যদি মনে করেন যে, আসামী অপরাধ করেছে বলে কোন সাক্ষ্য প্রমান নাই, তাহলে আদালত আসামীকে খালাস দেবেন এবং তা লিপিবদ্ধ করে রাখবেন

(ফৌজদারী কার্যবিধি ধারা- ২৬৫জ)

 অব্যাহতির ক্ষেত্রে শুধু অনুসন্ধান করা হয়, বিচার কার্যক্রম শুরু করা হয় না। যদি অব্যাহতির পর নতুন সাক্ষ্য প্রমান উদঘাঁটিত হয়, তাহলে আসামীর বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ ঘটন করা যায়।অন্যদিকে কোন আসামীকে বিচারে খালাস প্রদান করলে, পুনরায় তার বিরুদ্ধে একি অপরাধের অভিযোগ ঘটন করা যায় না। অব্যাহতির আদেশ আদালতের কোন রায় নয়। কিন্তু খালাসের আদেশ আদালতের একটি রায়

 ফৌজদারী কার্যবিধি ধারা- ২৬৫জ:

 

 

অব্যহতি

 

খালাস

১.

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ১১৯, ২০২-(), ২৪১(), ২৬৫() ৪৯৪() ধারায় আসামীর অব্যাহতির বিধান রয়েছে

 

 

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির আসামী খালাসের বিধান রয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৫(), ২৪৫(), ২৪৭, ২৪৮, ২৬৫ (৮), ২৬৫ (১১) ৪৯৪ (২) ধারায়:

 

অভিযোগকারী পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগকারী পক্ষ আসামী পক্ষের বক্তব্য শুনার পর আদালত যদি মনে করেন যে, আসামী অপরাধ করেছে বলে কোন সাক্ষ্য প্রমান নাই, তাহলে আদালত আসামীকে খালাস দেবেন এবং তা লিপিবদ্ধ করে রাখবেন

অভিযোগকারী পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগকারী পক্ষ আসামী পক্ষের বক্তব্য শুনার পর আদালত যদি মনে করেন যে, আসামী অপরাধ করেছে বলে কোন সাক্ষ্য প্রমান নাই, তাহলে আদালত আসামীকে খালাস দেবেন এবং তা লিপিবদ্ধ করে রাখবেন

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪১() ধারা:

কোন মামলায় আসামী হাজির হয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবী করলে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চার্জ গঠনের পূর্বে ফরিয়াদী বা রাষ্ট্রপক্ষ এবং আসামী পক্ষের বক্তব্য শ্রবণ পূর্বক যদি মনে করেন যে, অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং চার্জ গঠনের মত উপাদান নেই তবে তিনি কারণ লিপিবদ্ধ করে আসামীকে মামলা হতে অব্যাহতি দিতে পারেন

মামলার শুরুতে মামলার নথি, পুলিশ রিপোর্ট, মেডিকেল রিপোর্ট (যদি থাকে) অন্যান্য কাগজপত্র বিবেচনার পর যদি আসামীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ না থাকে তবে আসামী অব্যহতি পাবে (আসামীর দাখিল করা কোন কাগজ বিবেচনায় আসবে না)

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৫() ধারা: শুনানিতে আসামীর বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা প্রমানিত হলে আসামী খালাস পাবে

মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ গ্রহণের পর আদালত যদি আসামীকে নির্দোষ বলে সাব্যস্ত করেন তবে আদালত কারন লিপিবদ্ধ করে আসামেিক খালাস দিবেন

 

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪৫() ধারা: মামলার উভয় পক্ষের আপোষমীমাংসায় মিমাংসা হলে আসামী খালাস পাবে, তবে শর্ত থাকে মামলাটি মীমাংসাযোগ্য হতে হবে

 

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৪ ধারা:

আইন অনুসারে করতে বাধ্য হওয়ায় স্বত্বেও কোন কাজ করতে অস্বীকার করলে, আদালতের প্রতি অবমাননা দেখালে আদালত কার্যবিধি ৪৮০ ৪৮২ ধারা অনুসারে দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি দিলে এবং উক্ত ব্যক্তি আদালতে ক্ষমা প্রার্থনা করলে আদালত তাকে ক্ষমা করতে পারেন, এরূপ ক্ষমা করা হলে আদালত আসামীকে অব্যাহতি দিবেন

 

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৭ ধারা: নালিশি মামলায় শুনানির তারিখে ফরিয়াদি অনুপস্থিত থাকলে আসামী খালাস পাবে

ফরিয়াদীর নালিশক্রমে সমন জারির পর পরবর্তী শুনানীর তারিখে ফরিয়াদী হাজির না হলে (যৌক্তিক সময় পর্যন্ত দেখা উচিত) ম্যাজিষ্ট্রেট আসামীকে খালাস দিতে পারেন

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৮ ধারা: নালিশি মামলায় ফরিয়াদি যদি মামলা বা নালিশ প্রত্যাহার করে তবে আসামী খালাস পাবে

কোন মামলায় চূড়ান্ত আদেশ হওয়ার পূর্বে ফরিয়াদী যদি ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট নালিশ প্রত্যাহারের আবেদন দেয় এবং ম্যাজিষ্ট্রেট যদি মনে করেন আবেদন যথার্থ তবে তিনি আবেদন গ্রহণ করবেন এবং আসামীকে খালাস দিবেন

 

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৫() ধারা:

মামলার নথি, দাখিল দলিলাদি এবং তৎসম্পর্কে আসামী অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য শুনার পর দায়রা আদালত যদি মনে করেন যে, আসামীর বিরুদ্ধে মামলা চালাবার যথেষ্ট কারণ নেই, তাহলে আদালত আসামীকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিবেন এবং তার কারণ লিপিবদ্ধ করে রাখবেন

 

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ২৬৫(এইচ) ধারা: অভিযোগকারী পক্ষের সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামীর জবানবন্দি গ্রহণ এবং বিষয়টি সম্পর্কে অভিযোগকারী পক্ষ আসামী পক্ষের বক্তব্য শুনার পর আদালত যদি মনে করেন যে, আসামী অপরাধ করেছে বলে কোন সাক্ষ্য প্রমান নাই, তাহলে আদালত আসামীকে খালাস দেবেন এবং তা লিপিবদ্ধ করে রাখবেন

২৬৫(কে) ধারা: দায়রা আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণের পর যদি আসামীকে দোষী বলে সাব্যস্ত করেন তবে কারণ লিপিবদ্ধ করে আসামীকে খালাস দিবেন

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪() ধারা: পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আদালতের অনুমতি নিয়ে কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রত্যাহার করতে পারবেন এবং এরূপ প্রত্যাহার যদি চার্জ গঠনের পূর্বে করা হয় তবে আসামী অব্যাহতি পাবে অন্য ভাবে বলা যায়, পুলিশি মামলায় রাষ্ট্র পক্ষ চার্জ গঠনের পুর্বে মামলা প্রত্যাহার করিলে আসামী অব্যহতি পাবে

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৪(বি): পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আদালতের অনুমতি নিয়ো কোন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রত্যাহার করতে পারবেন তবে এরুপ মামলা সরকার কতৃক দায়েরকৃত হতে হবে এবং এরূপ প্রত্যাহার যদি চার্জ গঠননের পরে করা হয় তবে আসামী খালাস পাবে

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ১১৯ ধারা:

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধি ১০৭ ধারার নালিশ ইনকোয়ারীর পর যথার্থ বলে প্রতীয়মান না হলে যার বিরুদ্ধে নালিশ করা হয়েছে সে অব্যাহতি পাবে

 

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২-() ধারা

পুলিশ কোন মামলায় চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করলে এবং ম্যাজিষ্ট্রেট উক্ত রিপোর্ট গ্রহণ করলে আসামী অব্যাহতি পারে

 

অব্যহতি প্রদান করা হয় চার্জ গঠনের পুর্বে।

খালাস প্রদান করা হয় মামলার সাক্ষ, আসামীর জবানবন্দি পর্যালোচনার মাধ্যমে, মামরার শেষে রায়ের দিন।

ফরিয়াদি মামলা প্রত্যাহার করিয়া নিলে আসামী অব্যহতি পাবে।

 

১০

অব্যহতির আদেশ চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়

১০

খালাস আদেশ চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত

১১

অব্যহতির আদেশ এর ক্ষেত্রে 403 ধারা প্রযোজ্য নহে

১১

খালাস আদেশ এর ক্ষেত্রে 403 ধারা প্রযোজ্য

১২

অব্যহতির আদেশ এর বিরুদ্ধে রিভিশন

১২

খালাস আদেশ এর বিরুদ্ধে আপীল





 খালাস (Acquittal)

১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির আসামী খালাসের বিধান রয়েছে ফৌজদারি কার্যবিধির ২৪৫(), ২৪৭, ২৪৮, ২৬৫ এইচ, ২৬৫ কে, ২৪৫() ৪৯৪ বি ধারায়:

অব্যাহতির ক্ষেত্রে শুধু অনুসন্ধান করা হয়, বিচার কার্যক্রম শুরু করা হয় না যদি অব্যাহতির পর নতুন সাক্ষ্য প্রমান উদঘাঁটিত হয়, তাহলে আসামীর বিরুদ্ধে পুনরায় অভিযোগ ঘটন করা যায়

 ২৪১ক অব্যহতি প্রদানের সময় বিচারক কি কি বিষয় বিবেচনা করিবেন:

 ক. মামলার নথি,

খ. মেডকেল রিপোর্ট

গ.  দাখিল দলিলাদি বা কাগজপত্র

ঘ. ফরিয়াদির জবানবন্দি

ঙ. আসামী অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য

 

চুড়ান্ত বিচারের পর বেকুসুর খালাসপ্রাপ্ত ব্যক্তি কি পুনরায় একই ব্যক্তিকে কি বিচার করা যাবে কি না:

  বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৫(২) অনুচ্ছেদে বলা আছে যে, কোন ব্যক্তিকে একই অপরাধে ২ বার বিচার করা যাবে না।

 ১৮৯৮ সালের ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৩ ধারায় বলা আছে যে, এক অপরাধে কোন ব্যক্তি খালাস প্রাপ্ত হলে উক্ত ব্যক্তিকে একই অপরাধে পুনরায় বিচার করা যাবে না।

 

অন্যদিকে কোন আসামীকে বিচারে খালাস প্রদান করলে, পুনরায় তার বিরুদ্ধে একি অপরাধের অভিযোগ ঘটন করা যায় না অব্যাহতির আদেশ আদালতের কোন রায় নয় কিন্তু খালাসের আদেশ আদালতের একটি রায়

Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Disqus Shortname

Legal 100 💯 Amk marriage divorce বিবাহ তালাক Rajshahi Judge Court, Rajshahi.

Comments system

[blogger][disqus][facebook]

Below Post Ad