ফৌজদারি মামলার ধাপসমূহ

ফৌজদারি মামলা দুইভাবে দায়ের করা যায়।
**এজাহারের মাধ্যমে।
**নালিশ এর মাধ্যমে।
##এজাহারের মাধ্যমে দায়েরকৃত মামলা
(পুলিশ অভিযোগ পেলে কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।)
** প্রাথমিক সংবাদঃ
*ধারা ১৫৪ (GR cases)
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমলযোগ্য অপরাধের সংবাদ পেলে সরকার নির্দেশিত বি পি ফম ২৭ এতে অন্তর্ভুক্ত করবে।
* ধারা ১৫৫( নন-জিআর)
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ১৫৫ ধারায় আমল অযোগ্য অপরাধের সংবাদ পেলে এজাহার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত না করে সাধারণ ডায়েরি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে সংবাদদাতা কে ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট প্রেরণ করবে।
** আমলযোগ্য অপরাধের তদন্তঃ
*ধারা ১৫৬ অধীন পুলিশ আমলযোগ্য অপরাধের তদন্ত ম্যাজিস্ট্রেট এর অনুমতি ছাড়া করতে পারবে।
*ধারা ১৫৭ অধীন পুলিশ আমলযোগ্য অপরাধের তদন্ত সন্দেহের ভিক্তিতে করতে পারবে যদিও এজাহার দায়ের না হয় যেমন কোন চিঠির মাধ্যমে সংবাদ পেলে।
** আমল অযোগ্য অপরাধের তদন্ত।
* ধারা ১৫৫(২) অধীন পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি নিয়ে আমল অযোগ্য অপরাধ এর তদন্ত করতে পারবে।
** আদালতে প্রেরণ।
৬১ ধারার অধীন পুলিশ বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তারকৃত কে ২৪ ঘন্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে
**সাক্ষী তলব
১৬০ ধারার অধীন পুলিশ মামলার সাথে সম্পর্কিত সাক্ষীদের তলব করতে পারবেন।
**সাক্ষী পরীক্ষা
১৬১ ধারার অধীন পুলিশ মামলার সাক্ষীদের মৌখিক ভাবে পরীক্ষা করে লিখিত আকারে তা লিপিবদ্ধ কবে
**তল্লাশি
১৬৫ ধারার অধীন পুলিশ তদন্তের সময় প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো স্থানে তল্লাশি করতে পারবে
** কেস ডায়েরী
১৭২ ধারার অধীন পুলিশ প্রতিদিনের তদন্তের বিষয়ে এবং মামলার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তদন্ত সকল বিষয় উত্ত ডায়েরিতে অন্তর্ভুক্ত করবে।
** পুলিশ রিপোর্ট
১৭৩ ধারার অধীন পুলিশ তদন্ত করে আদালতে রিপোর্ট জমা দিবে। যদি অপরাধের সত্যতা না পাওয়া যায় তাহলে ফাইনাল রিপোর্ট দিবে এবং যদি অপরাধ এর সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে চার্জশিট দিবে।
#নালিশি মামলা
( নালিশি পেলে ম্যাজিস্ট্রেট কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে)
**মামলা আমলে নিবে
*১৯০ ধারা অধীন তিন ভাবে নালিশি মামলা ম্যাজিস্ট্রেট আমলে নিতে পারে
১.১৯০(১)ক অপরাধ সম্পর্কে নালিশ কারীর আবেদনে ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নিবে।
2.১৯০(১)খ পুলিশি রিপোর্ট এর মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধ আমলে নিবে।
3.১৯০(১)গ অন্য কোনভাবে বা ম্যাজিস্ট্রেট এর নিজ জ্ঞান অপরাধ আমলে নিবে।
** জবানবন্দি গ্রহণ
যদি কোন নালিশ মৌখিক ভাবে করা হয় তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট ২০১ ধারার অধীন শপথ পূর্ব অভিযোগকারী বা সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করবে।
** নালিশ ফেরত।
যদি এখতিয়ার বিহীন আদালতে নালিশ দায়ের করে তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট ২০১ ধারার অধীন নালিশ ফেরত দিবে এখতিয়ার সম্পূর্ণ আদালতে দাখিলের জন্য
** পরোয়ানা স্থগিত।
নালিশ আমলে নেওয়ার পর ম্যাজিস্ট্রেট যদি নালিশ এর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ করে তাহলে ২০২ ধারার অধীন পরোয়ানা স্থগিত করবে।
** অনুসন্ধান।
ম্যাজিস্ট্রেট ২০২ ধারার অধীন পরোয়ানা স্থগিত করে নালিশের সত্যতার নির্ধারণের জন্য অধীনস্থ ম্যাজিস্ট্রেট অথবা পুলিশকে নির্দেশ দিতে পারে তদন্তের জন্য
** নালিশ খারিজ।
২০৩ ধারার অধীন তিনটি কারনে নালিশ খারিজ হতে পারে।
ক নালিশ বিশ্বাসযোগ্য না হলে
খ ২০২ ধারার অধীন তদন্ত রিপোর্ট বাদীর বিপক্ষে আসলে
গ জবানবন্দি বিশ্বাসযোগ্য না হলে
**পরোয়ানা ইস্যু।
ম্যাজিস্ট্রেট যদি মনে করে ২০৪ ধারার অধীন পরোয়ানা এবং সমন ইস্যু করতে পারে কিন্তু প্রসেস ফি না দিলে নালিশ খারিজ করে দিবে
** বিচারের জন্য প্রেরন।
ম্যাজিস্ট্রেট যদি নালিশ আমলে নেওয়ার পর দেখতে পাই যে উক্ত অপরাধের বিচার করার এখতিয়ার দায়রা আদালতের তখন ম্যাজিস্ট্রেট ২০৫ গ ধারার অধীন বিচারের জন্য দায়রা আদালতে প্রেরণ করবেন।
★ ২. সমনঃ
ধারা ৬৮ থেকে ৭৪
শর্ত
* আসামী দের বিরুদ্ধে আদালত স্বাক্ষরিত সমন ইস্যু করা হয়। যেখানে আদালতে
হাজির হবার জন্য একটি নির্দিষ্ট তারিখ থাকে
* সমন প্রাপ্তি স্বীকার পূর্বক স্বাক্ষরিত হবে
*যার বরাবর সমন জারি করা হয়েছে তাকে খুঁজে পাওয়া না গেলে পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ব্যক্তির নিকট দেওয়া যাবে
*সমনে তলবকারি ব্যক্তি কে খুঁজে পাওয়া না বা সমন নিতে অস্বীকার করলে। বাড়ির সামনে অথবা প্রকাশ্য জায়গায় ঝুলিয়ে সমন জারী করা যাবে
★ ৩.ওয়ারেন্ট
ধারা ৭৫ থেকে ৮৬
শর্ত
* সমনে উল্লেখিত তারিখে আসামী হাজির না হলে আদালত তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করেন।
* আসামি গ্রেফতার না হওয়া পর্যন্ত পরোয়ানা বলবত থাকবে
*এক বা একাধিক পুলিশ অফিসার ওয়ারেন্ট বলবত করবে
* পরোয়ানা মাধ্যমে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে অনাবশ্যক বিলম্ব ছাড়া আদালতে উপস্থিত করতে হবে
★ ৪. হুলিয়া জারি
ধারা ৮৭
শর্ত
*কোন পলাতক আসামি কে নির্দিষ্ট কোন তারিখে নির্দিষ্ট স্থান হাজির হওয়ার জন্য ৩০ দিনে কম নয় এমন সময় দিয়ে বিচারক হুলিয়া জারি করবে
*হুলিয়া প্রকাশ্য স্থানে পড়ে শোনাবে বা হুলিয়া নকল টাঙ্গিয়ে দিবে
* হুলিয়া ঘোষণাকৃত আসামিকে বেসরকারি ব্যক্তি কর্তৃক গ্রেপ্তার করতে পারবে
★৫. সম্পত্তি ক্রোক
ধারা ৮৮
শর্ত
* হুলিয়া জারি করে আদালত যেকোনো সময় উক্ত ব্যক্তির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক আদেশ দিতে পারে
* ক্রোকৃত সম্পত্তি পচনশীল হলে তা বিক্রি করে দিতে পারবে
* ক্রোকৃত সম্পত্তিতে অন্য কোনো ব্যক্তির স্বার্থ থাকলে তা ৬ মাসের মধ্যে উত্থাপন করতে হবে
*উক্ত ব্যক্তির স্বার্থ অগ্রহণীয় হলে তিনি ১ বছরের মধ্যে মামলা দায়ের করতে পারবে
* ৬ মাস অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত ক্রোকৃত সম্পত্তি বিক্রি করতে পারবে না
* ক্রোক হওয়ার দিন থেকে ২ বছরের মধ্যে কৃত সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য আবেদন করতে পারবে
* ক্রোক মুক্তির আবেদন অগ্রাহলে ধারা ৪০৫ অনুসারে আপিল দায়ের করা যায়
★ ৬. পত্রিকা বিজ্ঞপ্তি : WP & A
এতে উল্লেখিত তারিখে আসামীকে হাজির করা না গেলে বা আসামী পলাতক থাকলে এবং আদালত তার বিরুদ্ধে দুটি বহুল প্রচলিত বাংলা পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রদানের আদেশ দেন।
★ ৭. অনুপস্থিতিতে বিচার
ধারা – ৩৩৯খ : পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রদানের পরও উল্লেখিত তারিখে আসামী হাজির না হলে বা আসামী পলাতক থাকলে তার অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু হয়। একে আইনের ভাষায় (Trial In Absentia) বলে।
বিচার
★ ৮. আসামি অব্যাহতি
*ধারা-২৪১(ক). ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পুলিশের রিপোর্ট এবং অপরাধ এর সত্যতা পাওয়া না গেলে চার্জ গঠনের পূর্বে আসামিকে অব্যাহতি দেবে
*ধারা-২৬৫(গ). দায়রা আদালত পুলিশের রিপোর্ট এবং অপরাধ এর সত্যতা পাওয়া না গেলে চার্জ গঠনের পূর্বে আসামিকে অব্যাহতি দেবে
★ ৯. চার্জগঠন
*ধারা-২৪২. অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চার্জ গঠন করবে
* ধারা -২৬৫ঘ. অনুসারে দায়রা আদালত চার্জ গঠন করবে
★ ১০. স্বীকারোক্তিমূলক দন্ড
*ধারা-২৪৩. অনুসারে আসামি দোষ স্বীকার করলে ম্যাজিস্ট্রেট দন্ড দিতে পারে
*ধারা-২৬৫(ঙ). অনুসারে আসামি দোষ স্বীকার করলে দায়রা আদালত দন্ড দিতে পারে
★ ১১. সাক্ষ্যগ্রহণ
*ধারা-২৪৪. অনুসারে আসামী যদি দোষ স্বীকার না করে তাহলে ম্যাজিস্ট্রেট সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে বিচার শুরু করবে
**ধারা-২৬৫(চ) এবং ২৬৫(ছ).অনুসারে আসামী যদি দোষ স্বীকার না করে তাহলে দায়রা আদালত সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করবে এবং সাক্ষ্য গ্রহণ করতে
★ ১২. রায় প্রদান :
**ধারা-২৪৫. অনুসারে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত সাক্ষীদের সাক্ষ্য, নথিস্থ কাগজাত ও অনান্য পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিশ্লেষন করে আদালতের নিকট সন্দেহাতীত ভাবে আসামীদেরে বিরূদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুসারে শাস্তি প্রদান করেন কিন্তু অভিযোগ প্রমাণিত না হলে খালাস প্রদান করেন
**ধারা-২৬৫(জ) এবং ২৬৫(ট) অনুসারে দায়রা আদালত সাক্ষীদের সাক্ষ্য, নথিস্থ কাগজাত ও অনান্য পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিশ্লেষন করে আদালতের নিকট সন্দেহাতীত ভাবে আসামীদেরে বিরূদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনানুসারে শাস্তি প্রদান করেন কিন্তু অভিযোগ প্রমাণিত না হলে খালাস প্রদান করেন
★ ১৩. আপীল
ধারা ৪০৪থেকে ৪৩১ : কোন পক্ষ আদালতের প্রদত্ত রায়ে সন্তুষ্ট না হলে এখতিয়ার সম্পন্ন উচ্চ আদালতে আপীল করতে পারেন।
★ ১৪. রিভিশন
*ধারা-৪৩৯. অনুসারে হাইকোর্ট বিভাগে ৬০ দিনের মধ্যে রিভিশন দায়ের করা যাবে
*ধারা ৪৩৯(ক) অনুসারে ৩০ দিনের মধ্যে দায়রা আদালতে রিভিশন দায়রা করা যাবে।
*ধারা-৪৪২(ক) অনুসারে ৯০ দিনের মধ্যে রিভিশন নিষ্পত্তি করতে হবে।

Lawyer's Club 24BD

E-mail Us:  Lawyer'sClub24BD.
এই সাইটের সকল প্রকার লেখা, পোস্ট, ছবি ইত্যাদি রেফারেন্স হিসেবে ব্যাবহার এর জন্য নয়। শুধুমাত্র যারা আইন বিষয়ে জ্ঞানার্জনে আগ্রহী তাদের জন্য।

[Facebook]

[Instagram]

[Twitter]  

[WhatsApp]

[LinkedIn]  

[Tumblr]

[Telegram]

[Pinterest]  


Description: C:\Users\marufhossenjewel\Desktop\505.jpg

প্রকাশকঃ

Maruf Hossen Jewel। Lawyer

Rajshahi Judge Court, Rajshahi

[Facebook]

[Instagram]

[Twitter]  

[WhatsApp]

[LinkedIn]  

[Tumblr]

[Telegram]

[Pinterest]  


Post a Comment

0 Comments
* Please Don't Spam Here. All the Comments are Reviewed by Admin.

Disqus Shortname

Legal 100 💯 Amk marriage divorce বিবাহ তালাক Rajshahi Judge Court, Rajshahi.

Comments system

[blogger][disqus][facebook]

Below Post Ad